দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে বিদ্যুৎ কখন আসবে, তার ঠিক নেই। এর মধ্যে মোবাইলের চার্জও যদি ফুরিয়ে যায়, তাহলে জরুরি যোগাযোগ থেকে শুরু করে মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহারে পড়তে হতে পারে বিপাকে। তবে বিদ্যুৎ না থাকলেও কয়েকটি সহজ উপায়ে ফোনের চার্জ সচল রাখা সম্ভব।
লোডশেডিংয়ের সময় ফোন সচল রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো আগে থেকেই চার্জ করা পাওয়ার ব্যাংক প্রস্তুত রাখা। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই পাওয়ার ব্যাংকটি পুরোপুরি চার্জ করে রাখলে প্রয়োজনের সময় সেটি ব্যবহার করা যায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রস্তুতি হিসেবে অতিরিক্ত ব্যাটারি বা গাড়ির চার্জার রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়।
তবে শুধু বিকল্প উৎস থাকলেই হবে না, ফোনের হাতে থাকা চার্জও যতটা সম্ভব বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ব্যাটারি কমে গেলে পাওয়ার সেভিং বা ব্যাটারি সেভার মোড চালু করা যেতে পারে। স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমানো, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখা এবং প্রয়োজন না থাকলে জিপিএস, ব্লুটুথ বা হটস্পট বন্ধ রাখলেও ব্যাটারি খরচ কমানো যায়।
গাড়ি হতে পারে সাময়িক চার্জিংয়ের উৎস
বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকলেও গাড়ি থাকলে সেটিকে সাময়িকভাবে ফোন চার্জের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। গাড়ির ইউএসবি পোর্ট বা উপযুক্ত চার্জিং সকেটের মাধ্যমে ফোনে চার্জ দেওয়া সম্ভব।
তবে গাড়ি ব্যবহার করে ফোন চার্জ দেওয়ার সময় অবশ্যই খোলা বা ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় থাকতে হবে। বন্ধ গ্যারেজে গাড়ির ইঞ্জিন চালু রাখা বিপজ্জনক হতে পারে।
ল্যাপটপ থেকেও মিলতে পারে চার্জ
লোডশেডিং শুরুর আগে ল্যাপটপে পর্যাপ্ত চার্জ থাকলে সেটিকেও ফোনের অস্থায়ী পাওয়ার উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। উপযুক্ত ইউএসবি পোর্ট ও কেবল থাকলে ল্যাপটপ থেকে ফোনে চার্জ দেওয়া সম্ভব।
তবে এতে ল্যাপটপের ব্যাটারিও খরচ হবে। তাই ফোনের চার্জ একেবারে শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে জরুরি প্রয়োজনে কিছুটা চার্জ তুলে নেওয়াই ভালো।
রোদ থাকলে সোলার চার্জার
দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পোর্টেবল সোলার চার্জারও বিকল্প হিসেবে কাজে লাগতে পারে। সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে এ ধরনের ডিভাইস ফোনের মতো ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্র চার্জ করতে পারে। তবে সূর্যের আলো কম থাকলে চার্জিং ধীর হতে পারে।
চার্জ বাঁচিয়ে রাখাও জরুরি
লোডশেডিং দীর্ঘ হলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফোন ব্যবহার না করাই ভালো। জরুরি যোগাযোগের জন্য ফোনের চার্জ যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করা উচিত। বিশেষ করে ভিডিও দেখা, দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বা অপ্রয়োজনীয় ইন্টারনেট ব্যবহারে ব্যাটারি দ্রুত কমে যেতে পারে।
ফোন চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনুমোদিত বা উপযুক্ত চার্জার ও কেবল ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্ড্রয়েডের সহায়তা নির্দেশনায়ও ফোনের সঙ্গে দেওয়া বা প্রস্তুতকারকের উপযোগী চার্জার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তাই দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের সম্ভাবনা থাকলে আগে থেকেই ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক চার্জ করে রাখা, প্রয়োজনে গাড়ি বা ল্যাপটপের মতো বিকল্প উৎস প্রস্তুত রাখা এবং ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি।
/অ